Dooarse trip 2026 - part 4

  ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব  তারীখ ১০//২৬

গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে.…........


লোলাওগাঁও  ইকো রিসর্ট দ্বতীয় দিন: গতকাল গভীর রাতে বৃষ্টি যখন থামে তখনও আমরা সবাই সুমিতের ঘরে আড্ডা মারছিলাম। হটাৎ বাইরে বেরিয়ে দেখি চারদিক যেন আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে! দূরে নীচের ভ্যালিতে আলোর রোশনী একটা সাদা কুয়াশার আস্তরন বিছিয়ে দিয়েছে যা ওপরে পাহাড়ের গায়ে বিচ্ছুরিত হয়ে সমস্ত পাহাড়টাকে আরও রহস্যময় করে দিয়েছে! এই আলো আধাঁরির মাঝে হটাৎ সুমিতের হেঁড়ে গলায় গান যেন পাহাড়ের সমস্ত রহস্যটাকে ভেঙে খান্ খান্ করে দিল।


বৃষ্টিস্নাত পরের দিন সকালবেলা উত্তর আকাশে ভেসে যাওয়া মেঘের মাঝে একঝলক কান্চনজঙঘার দেখা পাওয়া গেল যা দেখে অত্যুতসাহী দেবানু  বাকী সবাইকে ডেকে তুলতে গেল কিন্তু ঘুমন্ত সুদীপ্তর মধূরবচন যা দেবানুর পূর্বতন চোদ্দ 


রেস্টরেন্টের বাইরের দৃশ্য

জেনারেশনকে সম্ভাষন করে তা শুনে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ফিরে এল আর ততক্ষনে লাজুক পর্বতশিখরও মুখ লুকিয়ে নিয়েছে মেঘের আড়াল! 



ইকো রির্সটের কিচেনে আটটার আগে কোনও স্টাফ আসে না আর তাই প্রথম মর্নিং চা পাওয়া গেল নটার সময়! দেবানুর তদ্বিরের ফলে অবশ্য আর কিছুক্ষনের মধ্যে ব্রেকফাস্টও এসে গেল। ব্রেকফাস্ট বলতে ছিল ট্যমাটো সস সহযোগে আলু-পরোটা আর ডিম সেদ্ধ! আলু-পরোটাটা অবশ্য বেশ টেস্টি ছিল! যাই হোক ব্রেকফাস্ট সমাপ্ত করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম লোকাল সাইট সীন ট্যুরের উদ্দেশ্যে। 


লোকাল সাইট সীন:প্লানিঙের ব্যাপারে দেবানু আর কুন্তল দুজনেই বেশ সিদ্ধহস্ত কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দুজনেই যদি একই জিনিষ প্লান করতে বসে তবে দুজনের মধ্যে এমন ঠোকাঠুকি শুরু হয়ে যাবে যে মনে হবে এইবুঝি লাগল প্রলয়! দুজনকে এজন্য দিতে হবে দুটো আলাদা প্রজেক্ট আলাদা আলাদা প্লান করার জন্য। এক্ষেত্রে দেবানুর প্লান মোতাবেক গাড়ী একদম রাইট টাইমে আমাদের নিয়ে চলল প্রথমে লাভা মনস্টারির উদ্দেশ্যে। ছবির মতো সুন্দর ধূপি আর পাইন গাছ পরিবৃত রাস্তা দিয়ে ছুটল আমাদের গাড়ী। লাভা মনস্টারী হল একটা ট্রাডিশনাল তিব্বতী বৌদ্ধ মঠ।  এটি মোটামুটি ১৯৯০ সালে একর জমিতে তৈরী হয়। এই মঠের উত্তর দিকে ডুয়ার্স তরাই এর বিশাল প্রান্তর আর তারপর উচ্চশৃঙ্গ কান্চনজঙ্ঘা বিরাজমান। আকাশ মোটামুটি স্বল্প মেঘ বা মেঘহীন হলেই তাঁর দেখা পাওয়া যায় এখান থেকে।


মঠ টা বেশ বড় আর এদের মূল গর্ভগৃহগুলির ভেতরে ভগবান বুদ্ধের বেশ সম্ভ্রম জাগানো মূর্তি আসীন আছে। এখান থেকে বেরোনার পর প্রথমে দেখা গেল সুদীপ্ত সুমিত হারিয়ে গেছ।  পরে জানা গেল তেনারা চা- সিগ্রেট পান করার জন্য স্বেচ্ছায় হারিয়েছিল! সবাইকে জড়ো করে যখন আমরা পরবর্তী স্পট বুম্বাধারা মঠ যাব বলে রেডি হচ্ছি তখন প্রায় ২টো বাজে আর দেবানু ঘোষনা করল - এখানেই মধ্যান্ন ভোজন হবে!


 লাভা মনাস্টারির ভিতরে...


নিকটবর্তী একটা রেস্টুরেন্টে আমরা আকন্ঠ লান্চ করে পরবর্তী বুম্বধারার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এই বৌদ্ধ মঠটির বিশেষত্ত্ব যা এক লহমায় দৃষ্টি আকর্ষন করে তা হল - ঘন্টার ন্যায় বিশালকায় এই বৌদ্ধ মঠটির সুউচ্চ শৃঙ্গ! চারপাশের পাইন আর অন্য উঁচু গাছগুলোকে এর পাশে তুচ্ছ মনে হয়!

















বুম্বাধারা মঠ এক লহমায়...



















রক পেন্ট - লাভা ভিউ পয়েন্ট



ক্রমশ... ১১/, ১২/ বক্সার জঙ্গল।

Comments

Popular posts from this blog

Choti Choti batyen of Jalu86 [10 - 15 March’26]

Memories from Dalma — A Reunion in the Wild [part-1]

Dooarse 2026 part-2