Dooarse 2026 part-2
ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব ২
গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে.…........
নিউজলপাইগুড়ি হল সমগ্র নর্থইস্ট ইন্ডিয়ার এক কথায় গেটওয়ে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের জন সমাগম হয় এখানে বিভিন্ন দর্শনীয় স্হানে যাবার জন্য। মনোরম দার্জিলিন হিমালয়ান রেল এখান থেকেই স্টার্ট হয়!
অথচ সে তূলনায় এখানকার ব্যবস্হপনা সুগম আর সহজ নয়। বাস, টাক্সি, পোর্টার, হোটেল সবকিছুর জন্যই এখান প্রতিনিয়ত কনফিউশন আর তার সাথে বিশাল এলাকা জুড়ে স্টেশনের রিনোভেশনের কাজ চলছে। আর এর মধ্যে যদি আমাদের দরাদরি মাস্টার দেবানু-কুন্তল জুটি গাড়ী ঠিক করতে যায় তবে সুদীপ্তর কথায় বাকীরা একটা ঘন্টাখানেকের ঘর দেখে আরামের ব্যবস্হা করতে পার! এমনকি ঘন্টাখানেকও কম পড়তে পারে!
যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধে হয়! গাড়ী ঠিক হবার আগেই একদম রাইট টাইমে বন্দেভারত ট্রেন এনজেপি পৌঁছাল আর আমরা মালপত্র টানতে টানতে স্টেশনের বাইরে হাজির হলাম। রোদ্দূরের প্রচন্ড উত্তাপ আর তার মধ্যে দেবানু আর কুন্তল গাড়ী ঠিক করতে উদ্যত হল। যাবার আগে সুদীপ্ত আর সুমিত কিছু মধুর শব্দবর্ষন করে ওদের আর্শীবচন করল যাতে ওরা ওদের সমস্ত পূর্বের ঘটনা স্মরনপূর্বক গাড়ী বুক করতে পারে, সে শব্দমন্জরীর বর্নণা এখানে অনাবশ্যক!
সুদীপ্ত, সুমিত, রন্জন বা কিংশুকের দ্বিতীয় সিগারেট শেষ হবার আগেই দেবানুর ফোন - গাড়ী তৈয়ার! আর আমরা হৈ হৈ করে স্কুলের ছেলেদের মতো লাফালাফি করে দুটো গাড়ীতে বসে পড়লাম, আর গাড়ী ছেড়ে দিল। বাইরে প্রচন্ড গ্রীষ্মের দাবদাহ আর গাড়ীর ভেতরে ঠান্ডায় কিংশুকের প্রথম মনে পড়ল ঠান্ডা বিয়ার না খেতে পারলে বাইরের গরমটার কোনও মানে হয় না! আর তাই আমরা শিলিগুড়ির বাজারটা পেরিয়ে একটা খালি জায়গায় দাঁড়ালাম বিয়ারের জন্য। আর এখানেই দেবানু আর কুন্তল , সুদীপ্ত-সুমিত কে ওদের প্রাপ্য শব্দমাল্য অলংকার ও সুদসমেত রিটার্ন করল!
লোলেগাঁও এর ১০৫ কিলোমিটার রাস্তাকে সর্টকাট করে আরও কমে অন্য একটা রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ী দৌড়ালো। এই রাস্তায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার লোলেগাঁও পার্কের আগে পড়ে বিখ্যাত লুপ ব্রীজ যা সত্যিই এক ইন্জিনীয়ারিং আশ্চর্য! তিন খানা লুপ দিয়ে একটা হাইওয়েকে এক্কেবার প্রায় ২০০ ফিট উপরে তুলে দিয়ে অন্য এক রাস্তায় মিলিয়ে দিয়েছে যা না দেখলে বিশ্বাস হবে না!
লুপ ব্রীজের এক দৃশ্য।
লোলাগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা।




Comments
Post a Comment