Dooarse trip 2026 part 5
ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব ৫ তারীখ ১১/৬/২৬
গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে.…........
বক্সার জঙ্গলে ২ রাত: আমাদের গাড়ী বলা ছিল সকাল সাড়ে নটায় কিন্তু সকাল থেকে অবিরাম বর্ষন হচ্ছিল যার থামার কোনও লক্ষনই নেই! কিংসুক গাছের কয়েকটা পাখীকে দেখে বলল - এই যে পাখীগুলো আসতে শুরু করছে এর মানে বৃষ্টি এবার কম হতে শুরু করেছে। আর সত্যি সত্যিই কিছুক্ষনের মধ্য বৃষ্টি একদম থেমে গেল আর গাছে গাছে বিভিন্ন পাখীর কলতানে জায়গাটা একদম মুখরিত হয়ে উঠল!
বিভিন্ন বাক বিতন্ডা ও প্রাতরাশ ইত্যাদি ক্লিয়ার করে আমাদের গাড়ী যখন ৫০০ মিটার এগিয়েছে সুমিত হটাৎ আবিষ্কার করল ওর আই কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না! অর্থাৎ আমাদের আবার ইকো রিসর্টে ফিরতে হল আর অনেক খোঁজাখুঁজির আই কার্ড বেরোল স্বয়ং সুমিতের লাগেজ থেকে যা নিয়ে দেবানু বেশ কিছু মধুর সম্ভাষনে সুমিতকে আপ্লুত করল! এতকান্ডের পর যখন আমরা আবার রওনা দেব বলে ভাবছি তখন সুদীপ্তকে পাওয়া গেল না কারন তাঁর নাকি তখন ভীষন চা-টেষ্টা পেয়েছিল আর তাই সে তুরন্ত একটা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে!
রাজাভাতখাওয়া স্টেশন: আমাদের হোটেল বা হোমস্টের আয়োজক বারে বারে আমাদের স্মরন করিয়ে দিয়েছিল যে সেদিন জঙ্গল বন্ধের দিন কিন্তু যেহেতু আমাদের হোমস্টে জঙ্গলের মধ্যে অবস্হিত, আমাদের গেট পেরিয়ে পৌঁছাতে কোনও অসুবিধে হবে না! শুধু আমরা যেন বিকেল সাড়ে চারটের আগে গেট পর্যন্ত পৌঁছে যাই যেখানে ওদের লোক অপেক্ষা করবে। কিন্তু কা কস্য পরিবেদনা! সারা রাস্তায় চা সিগ্রেট ফটোস্যুট ইত্যাদি ইত্যাদি করে আমরা যখন পৌঁছালাম তখন সন্ধে গড়িয়ে সাড়ে ছটা! জঙ্গলের মেন গেট দু ঘন্টা আগেই বন্ধ হয়ে গেছে! অগ্যতা দায়ভারি আয়োজক আমাদের বললেন সোজা রাজাভাতখাওয়া স্টেশন পেরিয়ে একদম শেষপ্রাত্নে পৌঁছান, সেখানথেকে লোক এসে আমাদের গাইড করে নিয়ে যাবে।
সন্ধের অন্ধকারে স্টেশন ছাড়িয়ে জঙ্গলের প্রান্তে এসে সেখান থেকে জঙ্গলের মধ্যে লাইন ধরে প্রবেশ ,তারমধ্যে হটাৎ সুদীপ্তর সিগারেট জালানো এবং গাইডের ধমক খেয়ে বন্ধ করা এবং তারপর সন্তর্পণে রাস্তায় এবং অবশেষে গাড়ীতে একঘন্টা সফর শেষে আমাদের অধিকারী- হোমস্টে তে পৌঁছানোর সেই জার্নি যে কোনও রহস্য রোমান্চ সিরিজ কে হার মানাবে!
জঙ্গলের মধ্যে বাফার এরিয়ার পরিস্কার চওড়া রাস্তা দিয়ে যখন আমাদের গাড়ী গন্তব্যস্হলের দিকে ছুটে চলল, ড্রাইভার জানালো এই রাস্তাটাই সোজা বক্সাফোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে! ঢাকা গাড়ীর মধ্যে থেকে চারপাশের গভীর বনানীর কিছুই বোধগম্য হল না। শুধু ড্রাইভার বলল ঐ রাস্তায় বহুবার গজরাজের দর্শন মিলেছে! প্রায় ১১ কিমি সফর শেষে পর আমরা অধিকারী- হোমস্টে পৌছালাম।
অধিকারী হোমস্টে: কিছুটা পৈত্রিক পাকাবাড়ী আর তাকে কেন্দ্র করে এক পাশে গড়ে উঠেছে চার কামরার হোমস্টে। হাতীবহুল এরিয়া আর তাই সমস্ত বাড়ী তৈরী হয়েছে বিশাল লম্বা লম্বা শালখুঁটির মাথায় যাতে নীচে দিয়ে অবলীলায় গজরাজের আবাগমন হতে পারে! ঘরের সংলগ্ন একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে যেখান থেকে বসে বিনাবাধায় চর্তুদিকের জঙ্গল দেখা যায়। পরবর্তী দুদিনের অধিকাংশ সময় আমাদের এই ওয়াচ টাওয়ারে বসেই কেটেছে! এখানে বসেই আমরা সামনের জঙ্গলের বিশাল গাছের মাথায় রাজকীয় ধনেশ পাখীর জোড়া বা দেওয়ালে বিশাল মাকড়সা ও সন্ধেবেলো তক্ষকের ডাক শুনে ছিলাম।
কিংশুক একজন পাখী বিশারদ। কর্মজীবনে বহুসময় সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছ। ক্যামেরা হাতে দিনের অধিকাংশ সময় ওকে এখানেই দেখা যাবে আগামী দুদিন!
Great Indian hornbill birds
Ghis river inside Buxa forest
ক্রমশ... বক্সার জঙ্গল।




Comments
Post a Comment