Dooarse trip 2026 Part 6

 ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব  ৬ তারীখ ১২/৬/২৬

গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে.…........

অধিকারী হোমস্টে ফার্স্ট নাইট: জঙ্গলের মধ্যে বাফার এরিয়ায় ছোট্ট একটা লোকালয়, চারপাশে আরও কুড়ি তিরিশ বসতি নিয়ে এই জায়গাটা। ১৯৮২ সালের আগে এখানে ডলোমাইট মাইনিং হত, এই লোকালয়টি সেই মাইনিং এর সময়ে তৈরী হওয়া কোলিয়ারীর শেষাবশেষ। ১৯৮৩ সালে বক্সা টাইগার রির্জাভ ঘোষিত হয়। মাইনিং বন্ধ করে দেওয়া হয় আর তখন থেকে এই জায়গাটা পরিবর্তনের আবর্তে চলতে চলতে আজ এই অবস্হায় পৌঁচেছে! কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট বৌদ্ধ মন্দির আছে যেটা এই জায়গাটার পরিবর্তনের সাক্ষ্য হয়ে এখানকার ইতিহাসকে বহন করে চলেছে। 

কিন্তু সে তো কাল দেখা যাবে আজ এখন এই রাতের অন্ধকারে আমাদের পাখী পড়ার মতো করে বলে দেওয়া হল হোমস্টে ছেড়ে বাইরে না বেরোতে। হাতীর পাল যখন তখন হানা দিতে পারে! অগ্যতা আমরা স্নান করে ফ্রেশ হয়ে ওয়াচ টাওয়ারে জমিয়ে বসলাম। রুমগুলো বেশ বড়ো আর অবারিত জানালা দরজা দিয়ে পবনদেব দিবারাত্র অকুন্ঠ বয়ে চলেছে। গরম আদৌ ফিল হচ্ছে না। কিংশুক বলেও ছিল যে জঙ্গলের মধ্যে এসির কোনও দরকার পড়বে না! তাছাড়া জঙ্গলের মধ্যে বিদ্যুত সরবরাহ বেশ অনিয়মিত যা এসি লোডের পক্ষে মোটেই অনুকূল নয়।

ওয়াচ টাওয়ারে বসে প্রকৃতি দর্শন করার সাথে সাথে বসে জমিয়ে আড্ডা দেবার ব্যবস্হা আছে। হোমস্টের পেছনের দিকটাতে জঙ্গলের বিশালাকায় শাল গাছগুলো অন্ধকারে অশরীরীর মতো দাঁড়িয়ে হাওয়ায় দুলছে। একটা বিশালবড় শিমূল গাছ তারই মাঝে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। মাঝে মাঝে একটা দুটো জোনাকী পোকার দঙ্গল কানামাছি খেলার মতো এ গাছ থেকে সে গাছে উড়ে বেড়াচ্ছে। এরই মাঝে একটা বিকট কট্ কট্ শব্দ মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে যা কখনও মনে হচ্ছে আমাদের রুমের দিক থেকে আসছে বা কখনও মনে হচ্ছে দূরে চলে যাচ্ছে, যেটা কিংশুক শুনে বলল তক্ষক ডাকছে! এক স্ট্রোকে মোট চারবার ডাকছে আর তারপর থেমে যাচ্ছে। আমি রেকর্ড করার খুব চেষ্টা করলাম কিন্তু এত অনিয়মিত আর লাজুক যে মাত্র একটা ডাক রেকর্ড করতে পেরেছিলাম কোনওমতে। এছাড়া একটা প্রায় হাতের তালুর সাইজের মথ আমরা দেখেছিলাম ওয়াচ টাওয়ারের দেওয়ালে!

ভূটান / জয়গাঁও বর্ডার: দেবানু পরেরদিন সকালে আমাদের ভূটান দর্শন প্লান করে রেখেছিল। জয়গাঁও বর্ডার এখান থেকে ৪০ কিমি। রাস্তা ভালো আর তাই গাড়ীতে মোটামুটি তিন ঘন্টা যেতে আসতে লাগে। অর্থাত সকাল নটায় বেরিয়ে পাঁচ ঘন্টায় ভূটান বর্ডার দেখে, ভূটানের ঝকঝকে পরিস্কার রাস্তাঘাট সম্পর্কে চকিত আইডিয়া করে ফেরত আসা যেতে পারে! অথএব আমরা পরের দিন সকাল সাড়ে নটায় বেরিয়ে পড়লাম ভূটানের উদ্দেশ্যে। কথায় বলে  - Man proposes God disposes. 

Ghis river inside Buxa forest

কিন্তু দেবানু আর কুন্তল দুজনে যখন একই গাড়ীতে আর দুজনেই যখন এই জায়গাটা ভালোভাবে চেনে আর তার মানে আগামী দেড় ঘন্টা এখন আমাদের প্রোপোসাল আর ডিসপোসালের ননস্টপ তর্জা শুনতে হবে! আর তার উপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন গাড়ীর এসি কাজ করছিল না আর রাস্তায় মাঝে বেশ কয়েক জায়গায় জ্যাম ছিল! 

যাই হোক জয়গাঁও ভূটান বর্ডারে পৌঁছাতে আমাদের পরিমিত সময় দেড় ঘন্টাই লাগল। ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভূটানে প্রবেশ করতে গেলে যে কোনও একটা আই কার্ড দেখালেই হবে। আই কার্ডে ঠিকানা লেখা থাকতে হবে আর আই কার্ড অরিজিনাল হতে হবে ফটোকপি, সফ্টকপি বা অনলাইন / ডিজিলকার কপি কাজ করবে না! একদম সরকারের ঘর থেকে আসা অরিজিনাল হার্ডকপি দেখাতে হবে! সেই মতো কুন্তল প্রথমেই এন্ট্রি পেয়ে যায়। তারপর আমি ,রন্জন ও কিংশুক এগোতে থাকি গেটের দিকে। দেবানুকে আটকে দেয় কারন ওর আধার কার্ড ডাউনলোডেড কপি ছিল। আমাদের সঙ্গে অরিজিনাল ভোটার কার্ড ছিল! পরিস্হতি বিচার করে দেখা গেল দেবানুর সাথে সুমিত আর সুদীপ্তও যেতে পারবে না। এমতবস্হায় আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে সবাইমিলে ফেরত যাওয়া হবে।

ভূটানে ঘুরতে যাবার বর্তমান নিয়মের মধ্যে এটাও লিখিত আছে যে প্রতি ২৪ ঘন্টা ভূটানে থাকার জন্য ভারতীয় মুদ্রায় ১২০০ টাকা প্রদেয় অর্থাৎ ১০ দিনের ভূটান ভ্রমনে ১২০০০ টাকা ভিসা ফিস বাবদ দিতে হবে। অবশ্য ১২ ঘন্টার কম সময়ের থাকার জন্য ফ্রি! অর্থাৎ ১২ ঘন্টার মধ্যেই ঘুরে বেরিয়ে আসতে হবে তারপর আবার পরেরদিন এন্ট্রি করতে হবে ১২ ঘন্টার জন্য।

জয়গাঁও বর্ডারে বিশাল বাজার। যে জিনিস ভূটানে পাওয়া যায় তার প্রত্যেকটা জিনিষ এখানে পাওয়া যায়। বাজার দেখেই দেবানু ছুটল জুতো কিনতে কিন্তু জুতোর সাইজ শুনে দোকানদারের মাথায় হাত! সম্বিত ফিরে পেয়ে বলল - দাদা এ সাইজ জয়গাঁও কেন সারা ভূটানেও পাবেন না!

বিকেলে জঙ্গল সাফারি করার ছিল কিন্তু সকলের অনুরোধে সেটাকে পরেরদিন সকালের জন্য শিফ্ট করে দেওয়া হল।

ক্রমশ: জঙ্গল সাফারী... 

* অরিজিনাল কার্ডে একটা চকচকে ডাকটিকিটের সাইজে সীল থাকে।

Comments

Popular posts from this blog

Choti Choti batyen of Jalu86 [10 - 15 March’26]

Memories from Dalma — A Reunion in the Wild [part-1]

Dooarse 2026 part-2