Dooarse trip - 2026 part 3


 ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব 

গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে.………..



















লোলাওগাঁও পার্ক:  লোলেগাঁও পার্কের সামনে বড় রাস্তাটা একটা হাফসার্কেল বাঁক নিয়ে শিলিগুড়ির দিকে চলে গেছে। যেহেতু আমরা সর্টকাট রাস্তায় এসেছি আর তাই আমরা আসলাম উল্টোদিকের রাস্তা থেকে। এই রাস্তার বাঁকে অবস্হিত লোলেগাঁও পার্ক,  অনেকটা দুর থেকেই পার্কের রকমারি ফুল গাছগুলো দেখা যাচ্ছে। রাস্তার দুপাশে বিশাল বপুর পাইন আার অন্যান্ন বড় বড় গাছ দাঁড়িয়ে আছে। সুবিশাল এই গাছগুলোর সামনে দাঁড়ালে নিযেকে ভীষন সামান্য আর অকিঙ্চিতকর মনে হয়! কিন্তু সুদীপ্ত আর সুমিতের প্রায় চার ঘন্টা গাড়ীতে কাটানোর পর নেমেই মনে হল - এটা একটা আদর্শ চা সিগারেট পয়েন্ট! 



















অবশ্যই জীবনের এই সায়ংকালে এসে আমাদের সবায়ের লক্ষ আলাদা আর মনোরন্জনের তালিকাতেও বেশ রকমফের আাছ। আর তাই কালবিলম্ব না করে কিংশুক ছুটল ক্যামেরা হতে ভালো ছবির সন্ধানে! জায়গাটা একটা বাজারের মতো। বেশ কিছু চায়ের দোকান, কিছু রেস্টুরেন্ট সহ বেশ কিছু ছবির মতো সাজানো ছোট ছোট হোটেল পরিবৃত হয়ে আছে জায়গাটা। যেহেতু পুরোটাই পাহাড়ের ঢালে অবস্হিত আর তাই এই বাজারকে মফস্বল এরিয়ার কোনও বাজারের সাথে তুলনা করা উচিত হবে না! 


কুন্তল আর কিংশুক দুজনেই জানালো যে অধিকাংশ বৃহত মহীরুহকুল হল ধুপি গাছ যা স্বাদীনতাপূর্বে জাপান দেশ থেকে এখানে আনা হয়েছিল পাহাড়ের ঢালকে রক্ষা করার জন্য। একশ বছর পরে পাহাড়ের ঢাল তো সংরক্ষিত হয়ে গেল কিন্তু এখানকার পক্ষীকুল বা পোকামাকড়দের এই গাছ একেবারেই পছন্দ হল না আর তাই এই গাছের জঙ্গলে বিহঙ্গ সমাগম খুব একটা দেখা যায় না! 















লোলেগাঁও ইকো রিসর্ট এখানথেকে ৫০০ মিটার দুরে জংগলের মধ্যে পাহাড়ের আর একটা ঢালে। গাড়ী মুখ ঘুরিয়ে এগোতে লাগল। মাথার উপরে ঘন জঙ্গলের ডালপালা এমন আবৃত করে রেখেছে যে সূর্যের আলো এখানে প্রবেশ করতে পারে না। কিছুক্ষন আগেই বৃষ্টি হয়েছে আর তাই মাটিও ভিজে আর কর্দমাক্ত। রাস্তার ধারে ধারে অসংখ্য গোলাপী আর বেগুনি রঙের বিশাল কানওয়ালা ফুল হয়ে রয়েছে, অনেকটা যেন বিশালাকৃতি ধুতরা ফুল! অসংখ্য রকমারি ফুল আর পাতাবাহারি গাছপালাকে স্পর্শ করে আমাদের দুটো গাড়ী এগিয়ে চলল ইকো রিসর্টের প্রবেশপথের উদ্দেশ্যে!




















...

আমাদের তিনখানা কটেজ রাস্তাথেকে কিছুটা উপরে অবস্হিত। এদিকটা ইকো রিসর্টের অন্য একটা প্রান্ত। WBFDC রিসর্টগুলি সবকটির অবস্হান খুবই সুন্দর ! এদের আগে একটা ইংরেজ আমলের গ্লাস আর কাঠ দিয়ে তৈরী বাংলো ছিল যার ধংসাবশেষ এখনও অবশিষ্ট আছে। রিসর্টজুড়ে অসংখ্য লাল, নীল আর হলুদ রঙের ফুলের গাছ। কোনটা গোলাপ আর কোনটা বা দেখতে পুরো ফুটবলের মতো বড় আর বিস্তৃত!  


বর্ষা আগতপ্রায়, মাঝে মাঝেই ঝমাঝম বৃষ্টি হচ্ছে আর তাই আমাদের আগেই সাবধান করে দিয়েছিল জোঁক থেকে বেঁচে চলাফেরা করতে যার জন্য লোলাগাঁও বিশেষরুপে অখ্যাত! খালিপায়ে ঘাসের উপর হাঁটা বা খোলা পায়ে চলাফেরা করতে একেবারে আমাদের বারন করে দিয়েছিল। 


আমাদের পৌছানোর কিছুক্ষন পরেই সন্ধা নেমে এল আর সেই সাথে শুরু হল প্রবল বর্ষন। কটেজের টিনের চালের উপর বৃষ্টির অসংখ্য ঝরে পড়ার কলকল শব্দ আর সেই সাথে সঙ্গতকরে কিছুক্ষনের মধ্যেই লোডশেডিং হয়ে যাওয়া যেন একেবারে সোনায় সোহাগা! তিনটে কটেজের মধ্যে আমরা রুদ্ধদ্বার,  প্রবল বর্ষনের মধ্যে আমি দরজা খুলে দেখবার চেষ্টা করলাম আর যা দেখলাম তা বলে বোঝানো দুষ্কর - বৃষ্টির প্রচন্ড ঝাপটায় চোখমেলে তাকানো মুশ্কিল, কান শব্দে ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে, যেদিকে তাকানো যায় অন্ধকারে শুধু একটা হালাকা সাদা কুয়াশা যেন চর্তুদিক ঘিরে রয়েছে। দুরে ভ্যালির নীচে যেখানে আলো দেখা যাচ্ছে তা যেন এই সাদা কুয়াশাটাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে! দূরে বড় বড় ধুপি গাছগুলোতে বৃষ্টি তির্যক হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি যে এত প্রচন্ড আর এত রহস্যময়ী হতে পারে তা বৃষ্টি না দেখলে হৃদয়ানুভব করা যায় না! 



আমার হটাৎ মনে হল গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স আসছি আর সেটাতো বৃষ্টির এই অপরুপ রূপকে দর্শন করব বলেই! সামনে তাকিয়ে দেখি দেবানুও ওর কটেজের দরজা খুলে উঁকি মারছে! আমাকে দেখেই একটা থামস-আপ দেখাল আর যার অর্থ - যাত্রায় পয়সা পুরো উসুল!





















ক্রমশ... সুদীপ্তর জোঁক আক্রান্ত 

Comments