Dooarse trip 2026 - part 1

ডুয়ার্স ভ্রমন ২০২৬ পর্ব ১

গত তিন বছর ধরে আমরা ডুয়ার্স যাচ্ছি স্কুলের বন্ধুরা মিলে এই পরিনত বয়সে। ২০২৪ এ প্রথম গেছিলাম,
সে যাত্রায় মাত্র চারজন সামিল হয়েছিল আর সেটা ছিল আগস্ট মাসে। আমরা সেবার ডুয়ার্সের বৃষ্টি জেনেই
গেছিলাম কিন্তু ডুয়ার্সের বৃষ্টি এত সুন্দর আর এত মনোরম হতে পারে তা আমাদের সপ্নাতীত ছিল আর সেই
শুরু আমাদের ডুয়ার্স প্রেম।
আজ আমরা সবাই মোটামুটি রিটায়ার্ড। ৯টায় ৫টায় ডিউটির বাধ্য বাধকতা অধিকাংশের ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়ে গেছে।
যারা পারিবারিক বিজনেসে আছে তারা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে তবে সবাই চেষ্টা করে যে আড্ডা বা ঘুরতে যাবার সময়
কিছুদিনের টাইম আউট করে আমাদের দল ভারী করতে। আর তারই ফলস্বরুপ গত বছর আমাদের ডুয়ার্স যাত্রায় সামিল
হয়েছিল পুরো দশ জন!
গত বছর আমরা গেছিলাম জুনের শুরুতেই আর তাই বৃষ্টিরানীর দর্শণে কিছু কমতি হয়েছিল তাই এবছর আমরা প্রথম
দুদিন কাটাই ডয়ার্সের এক প্রান্তে পাহাড়ের গায়ে প্রায় ৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্হিত লোলেগাঁও গ্রামে আর বাকী দুদিন
কাটাই বক্সা জঙ্গলের গভীরে অবস্হিত এক হোম স্টে আবাসে।
লোলাও গাঁও: ইংরাজীতে আসলে Lolay Gaon. এটি হিমালয়ের কোলে ৪৯০০ ফিট উচ্চতায় অবস্হিত কলিম্পং রাজ্যের
অর্ন্তগত একটি ছবির মত সুন্দর পাহাড়ী গ্রাম। শিলিগুড়ি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরত্ব। নিকটবর্তী আর একটি দর্শনীয় স্হান
হল লাভা। শিলিগুড়ি পৌছানোর ১০০ কিলোমিটার দূরত্ত্ব পর্যন্তও আমরা জানতাম না যে আমরা এখানে যাচ্ছি!
জায়গা ঠিক করার দায়িত্বে ছিল দেবানু আর লোক জড়ো করার দায়িত্বে আমি। যদিও রন্জন আমাকে বারবার বলেছিল
যে ডেস্টিনেশান টা ঠিক করে রাখতে কিন্তু আমি বা দেবানুও একটু ওভার কন্ফিডেন্ট ছিলাম যে জায়গা ঠিক করাটা
কোনও ব্যপার হবে না! জাস্ট কোথাও একটা পৌছোলেই হল - হাজার হোক এই ৬০+ পক্ককেশ বুড়োগুলো আর যাই হোক
বেশী দৌড় ঝাঁপ করবে না। একটা ঠান্ডা বা কম গরমওলা শান্তশিষ্ট জায়গায় এই সাতটা অতিপ্রাজ্ঞ পক্ককেশ বুড়োগুলোকে
বেশ নিরিবিলিতে সারাদিন আড্ডা আর অল্প ঘোরাঘুরির ব্যবস্হা করতে পারলেই হবে। আর হাঁ অতি অবশ্যই বৃষ্টিরানীর
নিরবিচ্ছিন্ন দর্শন থাকতে হবে!
৯/৬/২৬ মন্দিরতলা: আমাদের রাঁদেভু সকাল পাঁচটায়। সাতজন স্কুলফ্রেন্ড একসাথে একটা গাড়ীতে হাওড়া স্টেশন,
সেখান থেকে ৫:৫৫ তে বন্দেভারত ট্রেনে শিলিগুড়ি... চমক্ সেদিন সকাল থেকেই যথারীতি হাজির! আমাদের মহান
বন্ধু লেটলতিফ শ্রীমান সুমিত হাজির ছিলেন এক্কেবারে ৫টায় আর আমাদের কনভেনর শ্রীমান দেবানু হাজির হলেন এক্কেবারে
৫:১৫, দেরী না করে গাড়ী চলতে শুরু করল কারন আরও দেরী হলে ট্রেন ধরাটা মুশকিল হতে পারত!
ট্রেনে উঠে ব্রেকফাস্ট চা / কফি ইত্যাদি খাবার পর দেবানু আর কুন্তল একটার পর একটা সর্টসিলেক্ট রিসর্ট গুলোতে ফোন
করতে শুরু করল। আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল কলিম্পং এ কিন্তু কলিম্পং এর নীচের দিকে নদীর আশেপাশের রিসর্ট গুলোতে
জানা গেল রুমে এ সি নেই আর তাই পত্রপাঠ রিজেক্ট হল। একটা নদীর ধারের রিসর্টে এ সি তো মিলল কিন্তু সাত জনের
জন্য পর্যাপ্ত রুম সংকুলান হল না। পাহাড়ের উপরের দিকের রিসর্ট গুলো কোনওটাই এক্কেবারে উপরের ডেলোর কাছে নয়
বলে পছন্দ হল না।
বন্দেভারত ট্রেন তীরের গতিতে শিলিগুড়ির দিকে এগিয়ে চলেছে আর এদিকে কুন্তল আর দেবানু একটার পর একটা ফোন
লাগিয়ে চলেছে একটা পছন্দমতো থাকার জায়গা ঠিক করার জন্য! রন্জন আর আমি প্রমাদ গুনছিলাম - অবশেষে ঠিক
হল আমরা ২০২৪ শে ঝালং এ যেখানে ছিলাম সেখানেই আমরা যাব। আমি ঐ প্রপার্টিটাতে আগেই কথা বলে রেখেছিলাম
আর তাই এবার কথা বলার প্রয়োজন হল এ্যাডভান্স পেমেন্ট করার জন্য। ইত্যবসরে কুন্তল কোনও একটা গর্ভমেন্ট প্রপাটীতে
কথা বলে জানতে পারল যে অনলাইন বুকিং হবে WBFDC সাইট থেকে।
অনলাইন বুকিং হবে অনলাইন সাইট থেকে এ আর নতূন কি কথা! তবু আমার মনে হল ঝালং এর হোটেলে টাকা পাঠানোর
আগে একবার চেষ্টা করা যাক না যদি লাভা বা কলিম্পং এর WBFDC এর রিসর্ট এ জায়গা পাওয়া যায় কারন ওদের
রিসর্টগুলোর লোকেশনটা একদম ঝক্কাস এতো কোনও সন্দেহ নেই। ২০২৪ শে আমাদের সুলতানেখোলে অভিজ্ঞতাও তাই
বলে, আর সেই বুকিং ও এইরকম লাস্টমোমেন্টে আমি করেছিলাম।
নেক্সট আধাঘন্টা আমি ল্যাপটপে মেতে উঠলাম আর ছয় জোড়া চোখ আমার সাথে চোখ মেলাল! ওঃ না একটা ব্যতিক্রম -
সুদীপ্ত ওরফে্ মুকুল। সুদীপ্তর ফান্ডা একদম ক্লিয়ার - একটা থাকা খাওয়ার জায়গা হলেই হল, কাজ তো শুধু আড্ডামারা
আর গল্পকরা!
আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই সুদীপ্ত কিরকম নির্লিপ্তভাবে নিযের জীবনের চাওয়া পাওয়া টাকেও অগ্রাহ্য করতে পারে!
আমার যেখানে সামান্য হিসাব না মিললে দুঃখ করতে ভালোবাসি সুদীপ্ত সেখানে পুরো ভাবনাটাকেই একটা লোস্ট্রখন্ডের
মতো এক লহমায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকাতে ভালোবাসে।
ও হ্যাঁ সুদীপ্তর ব্যাপারে একটা লম্বা ডিস্কেলেইমার আছে - যদি সুদীপ্তকে কথা বলতে ছেড়ে দিয়েছ তো কথায় কথায় তোমার
মাথা খারাপ করে দেবে। রুম পার্টনার যদি সুদীপ্ত হয় তো সুদীপ্ত রুমে পৌছানোর আগেই শুয়ে পড়ো নাহলে ও সারা রাত্তির
ননস্টপ গল্প করে কাটিয়ে দেবে, আর ওর চোখে ঘুম কম আর গল্পের স্টক অপরিসীম!
ঘোরার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কুন্তল আর দেবানু সবথেকে অভিজ্ঞ। অনলাইন WBFDC সাইটে দেখলাম লোলেগাঁওয়ে রুম
আছে। অনলাইন সাইটে ছবি খুব সুন্দর সুন্দর আছে কিন্তু ছবি দেখে সাইট ডিসাইড করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কুন্তল
বলল যে লোকেশনটা ও জানে আর সত্যিই খুব সুন্দর আর তাই কালবিলম্ব না করে আমি তিনটে রুম বুক করে দিলাম!

লোলাগাঁওয়ের রাস্তায়
লোলাগাঁও রিসর্ট






























ক্রমশ...

Comments

Popular posts from this blog

Choti Choti batyen of Jalu86 [10 - 15 March’26]

Memories from Dalma — A Reunion in the Wild [part-1]

Memories from Dalma — A Reunion in the Wild [part-2]